এলিয়ট ওয়েভ থিওরি ,এলিয়ট তরঙ্গ তত্ত্ব
এই তত্ত্বটি যারা ব্যবহার করেছেন  তারা বলছেন  এর সাফল্য চমৎকার। আপনি একটু কষ্ট করে ইলিয়ট ওয়েব  শিখতে পারলে আপনি  মার্কেট এখন কোথায় আছে, মার্কেট পরবর্তীতে কোথায় যেতে পারে এবং লেনদেনকারীদের জন্য কি সুযোগ রয়েছে ইত্যাদি বলতে সক্ষম হবেন।রালফ নেলসন এলিয়ট একজন প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টান্ট ছিলেন। তিনি ৭৫ বছরের মত স্টক মার্কেটের ডাটা জোগাড় করে তা বিশ্লেষণ করে দেখেন যে মার্কেট মুভমেন্ট বিশৃঙ্খল দেখা গেলেও আসলে সেরকম ৬৬ বছর বয়সে তিনি, পর্যাপ্ত প্রমাণ (আর সাহস) যোগাড় করে তার খোজ/অনুসন্ধানের ফলাফল সবার সাথে শেয়ার করলেন। তিনি “দ্যা ওয়েভ প্রিন্সিপাল” নামে তার বই প্রকাশিত করলেন।
তার মতে মার্কেট ক্রমাগত চক্রে মুভ করে, যেটাকে তিনি ইনভেস্টরদের ইমোশন হিসেবে চিনহিত করেছেন যা বাহ্যিক প্রভাব অথবা একসাথে অনেকের সংঘবদ্ধ সাইকোলজি দ্বারা সংঘটিত হয়।না।অর্থাৎ লেনদেনকারীদের আচরণ => মার্কেট আচরণ।
ইলিয়টিরা, যাদের মধ্যে আছে অনেক ব্যাংক এবং বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের বড় টেকনিকাল কৌশলী, তারা ইলিয়ট তরঙ্গ তত্ত্ব ব্যবহার করেন লেনদেনকারীদের বিনিয়োগের আচরণ বোঝার জন্য এবং সেই অনুযায়ী পূর্বাবাস দিয়ে মার্কেট আচরণ প্রকাশ করেন।
এলিয়ট সাহেব বলেছেন যে প্রাইসে উপরের অথবা নিচের দিকের সুইং যা সংঘবদ্ধ সাইকোলজির জন্য হয়, সেগুলো সবসময় প্যাটার্ন হিসেবে দেখা যায়।
তিনি এইসব আপওয়ারড অথবা ডাউনয়ারড সুইংগুলকে “ওয়েভ” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তিনি বিশ্বাস করেন যে, যদি এই প্যাটার্নগুলোকে সঠিকভাবে চিনহিত করা যায়, তাহলে আপনি বলে দিতে পারবেন যে প্রাইস পরবর্তীতে কোথায় যাবে অথবা যাবে না। তথায় আপনি জ্যোতিষ বাবা হয়ে যাবেন।
এটা ট্রেডারদের কাছে এলিয়ট ওয়েভকে আকর্ষণীয় করে তলে। এটা আপনাদের একটা যথাযথ একটা পয়েন্ট মার্কেট রিভার্সাল চিনহিত করার উপায় দেয়। এক কথায়, এলিয়ট ওয়েভ মার্কেটে টপ ও বটম ধরার সুযোগ করে দেয়।
এই বিশৃঙ্খল মার্কেট মুভমেন্টের মধ্যে তিনি শৃঙ্খলা খুজে বের করেছেন। দারুন না?
চলেন এখন শেখার দিকে মনোযোগ দেই। প্রথমে আপনার ফ্রাক্টাল সম্পর্কে জানা দরকার।
ফ্রাক্টাল
ফ্রাক্টাল সাধারনত সেইসব জিনিস যা কয়েক ভাগ করা যায়, যেটা সম্পূর্ণ কোন কিছুর মতই কিন্তু একটা অংশমাত্র। যেমন কেক, তার একটা অংশ হল ফ্রাক্টাল।
এটা জানা দরকার কি? এলিয়ট ওয়েভের একটা গুরুত্বপূর্ণ বিসয় হল যে এগুলো ফ্রাক্টাল। এলিয়ট ওয়েভকে আবার ছোট ওয়েভে ভাগ করা যায়।

৫-৩ ওয়েভ প্যাটার্ন (ইলিয়ট তরঙ্গের মূল ভিত্তি)

৫-৩ ওয়েভ প্যাটার্ন

এলিয়ট সাহেব দেখিয়েছেন যে ট্রেন্ডিং মার্কেট ৫-৩ ওয়েভ প্যাটার্নে মুভ করে।

ইম্পালস ওয়েভ – প্রথম ৫ টা ওয়েভ প্যাটার্ন

কারেক্টিভ ওয়েভ – শেষের ৩ টা ওয়েভ প্যাটার্ন

অর্থাৎ  প্রতিটি পূর্ণ ইলিয়ট ওয়েব ৫টি ইম্পালসিভ তরঙ্গ দ্বারা গঠিত যা মূল ট্রেন্ড অনুসরণকারী ৩টি কারেক্টিভ তরঙ্গের দিকনির্দেশ করে। যাদের বলা হয় “৫-৩ পথ” ।
এই ৫-৩ গতিপথ যে কোন সময় ছকের ( M1, M5, M15 থেকে W1, M1 পর্যন্ত সব) জন্য সত্য।

ওয়েভ প্যাটার্ন

তরঙ্গ

উক্ত চিত্রটি একটি উচ্চমুখী ট্রেন্ড নির্দেশ করে যেখানেঃ
১-২-৩-৪-৫ হচ্ছে ইম্পালসিভ পথ, যেখানে তরঙ্গ ১-৩-৫ হচ্ছে ইম্পালসিভ তরঙ্গ এবং ২-৪ হচ্ছে কারেক্টিভ তরঙ্গ। ক-খ-গ হচ্ছে কারেক্টিভ পথ, যেখানে ক-খ হচ্ছে ইম্পালসিভ তরঙ্গ এবং গ হচ্ছে কারেক্টিভ তরঙ্গ।কিন্তু, এসব ইম্পালসিভ অথবা কারেক্টিভ বিষয়ের মানে কি ?
এগুলো বুঝতে হলে আমাদের যেতে হবে লেনদেনকারীদের আচরণ বিষয়ক বিবরণীতে এবং কিভাবে এগুলো ইলিয়ট অনুসারে কাজ করে।অন্যভাবে বলতে গেলে উপরের প্যাটার্নে ওয়েভ ১, ৩, ৫ হল মোটিভ, মানে এগুলো অভারঅল ট্রেন্ডের দিকে যায় আর ওয়েভ ২ এবং ৪ হল কারেক্টিভ ওয়েভ। এখন এগুলোকে বিশ্লেষণ করি।

ওয়েভ ১ – ক্রেতাদের প্রথম দলের এক আবেগপ্রবন আশাবাদ বর্ণনা করে। তারা বাই করার জন্য একটি ভালো কোন কারন পেয়েছে (হোক সেটা টেকনিক্যাল অথবা ফান্ডামেন্টাল) আর তাই তারা মার্কেট উপরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

ওয়েভ ২ – যেই না বায়াররা তাদের ট্রেড লাভে ক্লোজ করছে ওই ইম্পালস আস্তে আস্তে নেমে যাচ্ছে। অন্যান্য ইনভেস্টর যারা প্রথম ওয়েভ মিস করেছে, আর নতুন সুযোগের অপেক্ষায় আছে।

ওয়েভ ৩ – সাধারনত সবচেয়ে শক্তিশালী এবং দীর্ঘতম ওয়েভ। সকল ইনভেস্টর যারা বাই করতে চায় ( যারা ওয়েভ ১ ধরতে পারেনি আর যারা ধরেছে) তারা এই ওয়েভে বাই করবে। এছাড়াও, এই ওয়েভের মাঝপথে যারা আপট্রেন্ড মানতে দিধাবোধ করছিল তারাও এখন আপট্রেন্ডে সম্মতি দিবে। সবকিছু মিলিয়ে এটা মেইন ট্রেন্ডের দিকে জোরে একটা ঠ্যালা দিবে।

ওয়েভ ৪ – এখানে লাভ বুঝে নেয়ার সময়। ইম্পালসিভ মুভ আবার ম্লান হওয়া শুরু করে। কিন্তু কারেকশন অগভীর হবে যেহেতু এখনো অনেক বায়ার আছে যারা ট্রেন্ডে ঝাপ দিতে চায়।

ওয়েভ ৫ – আপট্রেন্ড আবার ক্রমাগত হয়, কিন্তু মার্কেট এখানে ওভারবট আর এটা নিশ্চিত যে একটা রিভার্সাল প্রয়োজন। ৫ম ওয়েভের শেষকে মাঝেমাঝে (আপট্রেন্ডে) ওভারসোল্ড এবং ডাইভারজেন্স হিসেবে মার্ক করা হয়। ডাইভারজেন্স – এটি বলতে বুঝায় যে, মার্কেট উচ্চমুখী ট্রেন্ডে ক্রয়াধিক দেখা যাচ্ছে কিন্তু RSI ইন্ডিকেটরে বিপরীত দিক নির্দেশিত বিক্রয়াধিক দেখাচ্ছে। এতে বুঝা যায় যে উচ্চমুখী মার্কেট নিম্নগামী হবে। ( বিপরীতক্রমে নিম্নমুখী মার্কেটের ক্ষেত্রে উচ্চগামী )

প্রসারিত ইম্পালস ওয়েভ

একটা জিনিস আপনার জানা দরকার যে, এলিয়ট ওয়েভ থিওরিতে যেকোনো ইম্পালসিভ ওয়েভে (১, ৩ অথবা ৫) একটা ওয়েভ সম্প্রসারিত থাকেবে। সোজা কথায়, একটা ওয়েভ বাকি ২ টা ওয়েভের চেয়ে বড় থাকবে।

এলিয়ট সাহেবের মতে, সাধারনত এটা ৫ম ওয়েভ সম্প্রসারিত হয়। সময়ের সাথে সাথে মানুষ ৩য় ওয়েভকে সম্প্রসারিত ওয়েব হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

তরঙ্গ ক, খ, গ – এই তরঙ্গগুলো তৈরী হয় প্রধান ট্রেন্ডের বিপরীত তরঙ্গের ট্রেন্ড পদ্ধতি হিসেবে। এই সময় নতুন ট্রেন্ড গঠিত হতে পারে আবার নাও হতে পারে এবং নতুন ১-২-৩-৪-৫-ক-খ-গ ক্রমানুসারে তরঙ্গগুলো শুরু হতে পারে।

ইলিয়ট তরঙ্গ এবং চক্রের প্রকারভেদঃ


ইহা খুব ভাল হতো যদি এই ৫-৩ তরঙ্গগুলো পেতাম এবং বিনিয়োগ করতাম, কিন্তু ব্যবহারিক ক্ষেত্রে আমরা যখন মূল্য তালিকার দিকে তাকাই তখন এই রকম মসৃণ ৫-৩ তরঙ্গ পাওয়া যায় না, তার পরিবর্তে দেখা যায় গোলক ধাঁধার উপর নিচ পথের মত। এখন আপনি কি করবেন?
ইলিয়ট তরঙ্গ তত্ত্ব বলে যে প্রত্যেক তরঙ্গই ছোট ছোট তরঙ্গ দ্ধারা গঠিত।

তরঙ্গযদি প্রত্যেক তরঙ্গই ছোট ছোট তরঙ্গের শ্রেণী দ্বারা গঠিত হয় তাহলে ছবিটি দেখতে এরকমঃ

তরঙ্গ

ইলিয়ট তরঙ্গের চক্রগুলো

ইলিয়ট তরঙ্গ অনুসারে একটি বড় তরঙ্গ তৈরী হয় প্রতিটি পূর্ণ ১-২-৩-৪-৫-ক-খ-গ তরঙ্গের সমাবেশে ( বড় তরঙ্গের একটি চক্র ) ।

ইলিয়ট তরঙ্গ

নিচে ইলিয়ট তরঙ্গ চক্রের একটি পরিচিত তালিকা এবং এদের বিভিন্ন প্রকারের নাম দেওয়া হলোঃ
তরঙ্গের প্রকার ৫ এর ট্রেন্ড ৩ এর বিপরীত ট্রেন্ড সময়ের পরিধি
সর্ব্বোচ্চ বৃহৎচক্র [[[[[[[[ [[ I] [II] [III] [IV] [V] [অ] [আ] [ই] শতাব্দী, যুগ
বৃহৎচক্র ( I) (II) (III) (IV) (V) (অ) (আ) (ই) যুগ, বাৎসরিক
চক্র I II III IV V অ আ ই বাৎসরিক, ত্রিমাসিক, মাসিক
প্রাথমিক [ ১] [২] [৩] [৪] [৫] [ক] [খ] [গ] ত্রিমাসিক, মাসিক, সপ্তাহিক, প্রতিদিন
মাধ্যমিক ( ১) (২) (৩) (৪) (৫) (ক) (খ) (গ) মাসিক, সপ্তাহিক, প্রতিদিন
গৌণ ১ ২ ৩ ৪ ৫ ক খ গ মাসিক, সপ্তাহিক, প্রতিদিন, ২৪০ মিনিট
মিনিট [ i] [ii] [iii] [iv] [v] [অ] [আ] [ই] সপ্তাহিক,প্রতিদিন,২৪০-৬০ মিনিট
মিনিটি ( i) (ii) (iii) (iv) (v) (অ) (আ) (ই) প্রতিদিন, ২৪০-৬০ মিনিট
উপমিনিটি i ii iii iv v অ আ ই ২৪০-৬০ মিনিট এবং আরও কম

টীকাঃ অনলাইন ট্রেডিং পদ্ধতিতে তৃতীয় বন্ধনীর পরিবর্তে গোলক চিহ্নও ব্যবহার করা হয়।

ABC কারেকশন

৫ ওয়েভ ট্রেন্ড কারেকশন ৩ ওয়েভ কাউন্টারট্রেন্ড দিয়ে রিভার্স করে। কারেকশনের জন্য নাম্বারের বদলে লেটার ব্যাবহার করা হয়। নিচের ছবিটি দেখুন।

ABC কারেকশন

বিভিন্ন ধরনের কারেক্টিভ ওয়েভ প্যাটার্ন

এলিয়ট সাহেবের মতে, ২১ ধরনের ABC কারেকটিভ প্যাটার্ন আছে। কি ২১ টা প্যাটার্নের কথা শুনে মাথা ঘুরালো নাকি? ভয় পাওয়ার কিছু নেই, এই প্যাটার্নগুলো ৩ টা সহজ ফরমেশন দিয়ে তৈরি। সেগুলো হলঃ

  • জিগজ্যাগ
  • ফ্ল্যাট
  • ট্রায়াঙ্গেল

জিগজ্যাগ

জিগজ্যাগ ফরমেশন খুব খাড়া মুভ যেটা ট্রেন্ডের বিপরিতে তৈরি হয়। ওয়েভ B সাধারনত A ও C এর তুলনায় সবচেয়ে ছোট মাপের হয়ে থাকে।
জিগজ্যাগএই ফরমেশন একটা কারেকশনে ২ থেকে ৩ বার দেখা যেতে পারে। প্রতিটা জিগজ্যাগ প্যাটার্নকে আবার ৫ টা ওয়েভ প্যাটার্নে ভাগ করা যায়।

ফ্ল্যাট

ফ্ল্যাট ফরমেশন চওড়া ওয়েভে মুভ। ওয়েভের মাপ সাধারনত দৈর্ঘে সমান মাপের হয়। এতে B ওয়েভ সাধারনত A এর মুভ বাতিল করে এবং C ওয়েভ B এর মুভ বাতিল করে।

ফ্ল্যাটএখানে সাধারনত ব্যাবহার করা হয়েছে কারন মাঝেমধ্যে B ওয়েভ A ওয়েভের শুরুকে অতিক্রম করে।

ট্রায়াঙ্গেল

ট্রায়াঙ্গেলট্রায়াঙ্গেল ফরমেশন হল সেই কারেকশন প্যাটার্ন যেগুলো কনভারজিং অথবা ডাইভারজিং ট্রেন্ডলাইন দিয়ে সংঘটিত হয়। ট্রায়াঙ্গেল ৫ ওয়েভ দ্বারা গঠিত হয়। এগুলো ট্রেন্ডের বিপরীতে সাইডওয়েতে মুভ করে। এই ট্রায়াঙ্গেলগুল সিমেট্রিক্যাল, উদ্ধগামি অথবা নিম্নগামি হতে পারে। নিচের ছবিগুলো দেখুন

ট্রায়াঙ্গেল

এলিয়ট ওয়েভের ৩ টি মৌলিক নীতি
এতক্ষণে আপনি হয়ত অনুমান করে ফেলেছেন যে এলিয়ট ওয়েভ থিওরি ট্রেডিংয়ে  যা করা লাগবে তা হল সঠিকভাবে ওয়েভ চিহ্নিত  করা। সঠিকভাবে ওয়েভ চিহ্নিত করার নজর হলে আপনি চার্টে কোন ওয়েভে আছেন আর বাই না সেল করবেন তা বের করতে পারবেন।
ওয়েভ গুলোতে লেবেল লাগাতে ৩ টা মৌলিক নীতি আছে যা ভাঙা যাবে না। সেগুলো হলঃ
নীতি ১  – ইম্পালসিভ ওয়েভের মধ্যে ওয়েভ ৩ সবচেয়ে ছোট হতে পারবে না।
নীতি ২ – ওয়েভ ২ ওয়েভ ১ এর শুরুকে অতিক্রম করতে পারবে না।
নীতি ৩ – ওয়েভ ৪ ওয়েভ ১ এর প্রাইস এরিয়াকে অতিক্রম করতে পারবে না।

তারপর আসছে গাইডলাইন যা আপনাকে ওয়েভে লেবেল লাগাতে সাহায্য করবে। অনলাইনে প্রচুর গাউডলাইন আছে। এখানে ৩ টা মুখ্য গাইডলাইন উল্লেখ করা হল। উপরক্ত নীতি যেমন সবসময় মানতে হবে, এগুলো সবসময় না মানলে চলবে।সেগুলো হলঃ

গাইডলাইন ১ – যখন ওয়েভ ৩ সবচেয়ে বড় ইম্পালস ওয়েভ, ওয়েভ ৫ আনুমানিকভাবে ওয়েভ ১ এর সমান হবে।

গাইডলাইন ২ – ওয়েভ ২ এবং ৪ পর্যায়ক্রমিক হবে। যদি ওয়েভ ২ একটা খাড়া কারেকশন হয়, ওয়েভ ৪ ফ্ল্যাট কারেকশন হবে। ওয়েভ ২ ফ্ল্যাট হলে, ওয়েভ ৪ খাড়া কারেকশন হবে।অর্থাৎ তরঙ্গ ২ এবং ৪ হবে ইম্পালসিভ তরঙ্গ যা ভিন্ন গঠনের হবে। যদি তরঙ্গ ২ সাধারণ কখগ গঠনের (আঁকাবাঁকা) হয় তবে ৪র্থ তরঙ্গটি হবে জটিল তরঙ্গ (ত্রিভুজ, দ্বিগুণ, তিনগুন প্রভৃতি)

ইলিয়ট তরঙ্গের নিয়ম

গাইডলাইন ৩ – ৫ম ইম্পালস ওয়েভের পরে, ABC কারেকশন সাধারনত ওয়েভ ৪ এর লো এর মধ্যে সিমাবদ্ধ থাকে।

সাইকেলপ্রো- ইলিয়ট তরঙ্গের নিয়মসমূহ নিয়ে  নিচে একটি বহু বিস্তারিত ব্যবহারবিধি দেওয়া হলঃ

ওয়েভের মধ্যে ওয়েভ

আগে বলেছিলাম যে এলিয়ট ওয়েভ হল ফ্রাক্টাল। প্রতিটা ওয়েভ সাব-ওয়েভ দ্বারা গঠিত। নিচের ছবিটি দেখুনঃ

 

ওয়েভের মধ্যে ওয়েভউপরের ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন ওয়েভ ১, ৩, আর ৫ ছোট ৫ ওয়েভ ইম্পালস প্যাটার্ন  তৈরি করেছে আর ওয়েভ ২ আর ৪ ছোট ৩-ওয়েভ কারেকশন প্যাটার্ন তৈরি করেছে? সবসময় মনে রাখবেন যে প্রতিটা ওয়েভ ছোট ছোট ওয়েভ প্যাটার্ন দ্বারা গঠিত হয় আর এগুলো মার্কেটে বার বার ঘটে।

সহজে ওয়েভ চেনার জন্য এলিয়ট ওয়েভ থিওরিতে ওয়েভকে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করতে বিশেষ কিছু লেবেল ব্যাবহার করা হয়। এগুলো ছোট থেকে বড়তে সাজানো হয়। প্রত্যেক ধরনের ওয়েভের নাম, লেবেল, ও টাইম পেরিওড নিচে দেয়া হলঃ

elliott_numerationউপরের চার্ট অনুযায়ী গ্রান্ড সুপার সাইকেল গঠিত হয় সুপার সাইকেল দ্বারা, সুপার সাইকেল গঠিত হয় সাইকেল দ্বারা ইত্যাদি। নিম্নে ওয়েভের অঙ্কিত একটা চার্ট দেয়া হলঃ

elliott

চার্ট দেখে বুঝতে পারছেন যে রিয়েল চার্টে ওয়েভ পারফেক্ট হয় না। এছাড়াও মাঝেমধ্যে ওয়েভ লেবেল করা কষ্টকর হয়ে থাকে। কিন্তু চর্চা করলে এসব কম কষ্টদায়ক হবে।

আপনার বুঝার সুবিধার্থে ইলিয়ট তরঙ্গের ধাপসমূহ অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা হল :-

ইম্পালসিভ তরঙ্গের ধাপসমূহ

১. ক্রমবর্ধমান তরঙ্গ- এই তরঙ্গসমূহ স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এরা ছোট ছোট উপ-তরঙ্গ দ্বারা গঠিত যা সহজেই দৃশ্যমান।

ইম্পালসিভ

২. ত্রিভুজাকার- ইহা ৫ম তরঙ্গে দেখা যায়। ৫ম তরঙ্গটি এমনিতেই দূর্বল থাকে তাই এই তরঙ্গে উপ-তরঙ্গ দ্বারা গঠিত ত্রিভুজাকার দেখা যায়।

ত্রিভুজাকার৩. ব্যর্থ অপূর্ণ ৫ম তরঙ্গ- ইহা ৫ম তরঙ্গে পাওয়া যায় যেখানে এটা খুব দূর্বল থাকে এবং ৩য় তরঙ্গকে পার করতে পারে না। ফলে জোড়া উচ্চ মূল্যের মান গঠন হয় (উপরোক্ত চিত্রের দ্বিতীয় অংশের মত)।

কারেক্টিভ তরঙ্গের ধাপসমূহ

কারেক্টিভ তরঙ্গের গঠন জটিল প্রকৃতির হয়। এদের ছয়টি প্রধান ভাগে ভাগ করা যেতে পারেঃ

কারেক্টিভ তরঙ্গ

bfs9
আঁকাবাঁকাঃ
এই কখগ ধাপ ৫-৩-৫ পর্যায় মেনে গঠিত হয় যেখানে খ তরঙ্গ ক তরঙ্গের বেশি নয় এবং গ তরঙ্গ ক তরঙ্গকেও ছাড়িয়ে যায়।সমানঃ
এই কখগ ধাপ ৩-৩-৫ পর্যায় মেনে গঠিত হয় যেখানে তিনটি তরঙ্গই সমান দৈর্ঘ্যের।অনিয়মিতঃ
এই কখগ ধাপ ৩-৩-৫ পর্যায় মেনে গঠিত হয় যেখানে খ তরঙ্গ ক তরঙ্গকে ছাড়িয়ে যায় এবং গ তরঙ্গ ক তরঙ্গের কাছে (বা নিচে) শেষ হয়।অনুভূমিক ত্রিভুজঃ
৫-তরঙ্গের ত্রিভুজ আকৃতি ৩-৩-৩-৩-৩ এর ছোট তরঙ্গ মিলে গঠিত হয়। সাধারণত এই ত্রিভুজগুলো ৪র্থ ইম্পালসিভ তরঙ্গে গঠিত হয়।ত্রিভুজদ্বিগুণ তিনঃ (Double Three)
এই কখগ-X-কখগ ধাপ যেকোন দুইটি ধাপে (আঁকাবাঁকা, সমান, অনিয়মিত অথবা ত্রিভুজ) গঠিত হয় এবং X তরঙ্গ দ্বারা সংযুক্ত থাকে।দ্বিগুণ তিন তরঙ্গের উদাহরণঃতিন তরঙ্গ

ছবি সম্পর্কেঃ

উপরোক্ত ছবিতে বড় তরঙ্গকে কখগ দ্বারা নির্দেশ করা হয়েছে। প্রতিটি বড় তরঙ্গই ছোট ছোট তরঙ্গ দ্বারা গঠিত। এই ছোট বা মধ্যম তরঙ্গকে অআই দ্বারা চিহ্নিত করতে হয়।

তিনগুন তিনঃ (Triple Three)
এই কখগ-X-কখগ-X-কখগ ধাপ যেকোন তিনটি ধাপে (আঁকাবাঁকা, সমান, অনিয়মিত অথবা ত্রিভুজ) গঠিত হয় এবং দুইটি X তরঙ্গ দ্বারা সংযুক্ত থাকে।

তিনগুন তিন তরঙ্গের উদাহরণঃ

তিনগুন

দ্বিগুণ তিন এবং তিনগুন তিন খুবই জটিল কারেক্টিভ ধাপ, তাই সঠিকভাবে গণনা করতে না পারলেও সাহস হারাবেন না। যদি সেই মুহূর্তে তরঙ্গগুলো ঠিক মত ধরতে না পারেন তবে অন্যান্য টেকনিক্যাল পর্যবেক্ষণের (বা ইন্ডিকেটরের) সাহায্য নিন।

সবসময় ইলিয়ট তরঙ্গের ধাপসমূহের ব্যাপারে পরিষ্কারভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। কিন্তু যদি কখন আটকে যান বা ধাপসমূহ ঠিকভাবে না আঁকা যায় তবে অন্যান্য পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি যেমন ইন্ডিকেটর, ফিবোনাক্কি ইত্যাদি ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নিন।

বিশেষভাবে লক্ষণীয়ঃ সকল কখগ কারেকশনে (আঁকাবাঁকা, সমান, অনিয়মিত, দ্বিগুণ তিন, তিনগুন তিন) গ তরঙ্গ টি ৫ তরঙ্গের ধাপে গঠিত। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। গ তরঙ্গের পর নতুন ইম্পালসিভ তরঙ্গে ট্রেডের/বিনিয়োগের পরিকল্পনা করার পূর্বে এটা ভাল করে দেখে নিতে হবে।

এলিয়ট ওয়েভ আর ফিবোনাচ্চি

এলিয়ট ওয়েভ চিনহিত করতে ফিবোনাচ্চি অনেক কাজে দেয়। ফিবোনাচ্চি নিজে একটা সপরিপুরক ট্যুল আর এই ট্যুল ব্যাবহার করে ওয়েভ প্রজেকশন সহজ হয়ে যায়। ফিবোনাচ্চি রেশিও (৩৮.২%, ৫০%, ৬১.৮%, ১৬১.৮% ইত্যাদি) ব্যাবহার করে ট্রেডাররা ওয়েভের দৈর্ঘ্য, কারেকশনের গভীরতা, ইত্যাদির ধারনা নিতে পারেন। চলুন দেখিঃ

এলিয়ট ওয়েভ আর ফিবোনাচ্চিউপরের চার্টে দেখতে পারছেন যে প্রতিটা ওয়েভের জন্য নির্ধারিত কিছু ফিবো লেভেল আছে যা আপনাকে পরবর্তী ওয়েভ প্রজেকশনের জন্য একটা ধারনা দিতে পারে। এটা ব্যাবহারে কি ধরনের সুফল পাওয়া পারে?

আপনি হয়ত মনে মনে বলছেন, ব্যাটা এত পেচাল পারতেসস কেন? এইটা দিয়া কোটিপতি হব কেমনে সেইটা দ্যাখা!!!
চলেন পরে কি হয় দেখি …

ওয়েভ ট্রেডিং

এতক্ষণ আপনি যার আশায় ছিলেন, সেই মুহূর্ত এসে গেছে। এলিয়ট ওয়েভ সম্পর্কে অনেক কিছু পরেছি আর বুঝেছি। এখন ওয়েভগুলো দিয়ে কীভাবে লাভ করতে হয় সেটা দেখব।

আমাদের কাছে এলিয়ট ওয়েভের ৩ টা মৌলিক নীতি আছে যা ভাঙা যাবে না। সেগুলো হলঃ

নীতি ১  – ইম্পালসিভ ওয়েভের মধ্যে ওয়েভ ৩ সবচেয়ে ছোট হতে পারবে না।
নীতি ২ – ওয়েভ ২ ওয়েভ ১ এর শুরুকে অতিক্রম করতে পারবে না।
নীতি ৩ – ওয়েভ ৪ ওয়েভ ১ এর প্রাইস এরিয়াকে অতিক্রম করতে পারবে না।

এর সাথে ফিবোনাচ্চি যোগ করে ট্রেড সেটআপ বের করতে পারি। চলুন দেখিঃ

elliot fiboউপরের চার্টে কি এলিয়ট ওয়েভের কোন মৌলিক নীতি ভঙ্গ করেছে? যেসব গাইডলাইন ছিল, তা কি ভঙ্গ করেছে? এখানে ফিবোনাস্যি আমাদের কি ধরনের সাহায্য করেছে?

এই সবকিছুর উত্তর দিতে নিজে একটু মাথা ঘামান। হাহাহা!!!

এলিয়ট ওয়েভ থিওরির সারাংশ

এলিয়ট ওয়েভ হল ফ্রাক্টাল। প্রতিটা ওয়েভ কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়, যার আবার প্রতিটাকে একই রুপে চিনহিত করা যায়।

ট্রেন্ডিং মার্কেটে প্রাইস ৫-৩ ওয়েভ প্যাটার্নে মুভ করে।

প্রথম ৫ ওয়েভ প্যাটার্নকে ইম্পালসিভ ওয়েভ বলা হয়।

তিনটি ইম্পালসিভ ওয়েভের (১,৩,৫) মধ্যে একটি ওয়েভ বরধিত থাকবে। ওয়েভ ৩ সাধারনত বর্ধিত হয়ে থাকে।
পরের ৩ ওয়েভ প্যাটার্নকে কারেকটিভ ওয়েভ বলে। সংখ্যার বদলে লেটার ব্যাবহার করা হয়।

১, ৩, ৫ ওয়েভে ছোট ছোট ৫ ওয়েভ ইম্পালস প্যাটার্ন দেখা যেতে পারে এবং ২ আর ৪ ওয়েভে ছোট ছোট ৩ ওয়েভ কারেকটিভ প্যাটার্ন দেখা যেতে পারে।

২১ ধরনের কারেকটিভ প্যাটার্ন আছে কিন্তু সেগুলো ৩ ধরনের সহজবোধ্য ফরমেশন দিয়ে তৈরি।

৩ টি ফান্ডামেন্টাল কারেকটিভ প্যাটার্ন হল – জিগজ্যাগ, ফ্ল্যাট, আর ট্রায়াঙ্গেল।

ফিবোনাচ্চি  ওয়েভ প্রজেকশনে সহায়ক ট্যুল।
তিনটি নীতি যা ভঙ্গ করা যাবে নাঃ

নীতি ১  – ইম্পালসিভ ওয়েভের মধ্যে ওয়েভ ৩ সবচেয়ে ছোট হতে পারবে না।
নীতি ২ – ওয়েভ ২ ওয়েভ ১ এর শুরুকে অতিক্রম করতে পারবে না।
নীতি ৩ – ওয়েভ ৪ ওয়েভ ১ এর প্রাইস এরিয়াকে অতিক্রম করতে পারবে না।

যদি এলিয়ট ওয়েভ ট্রেডার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তাহলে, এখানে যা শিখেছেন তা পর্যাপ্ত না। এলিয়ট ওয়েভ ট্রেডার হওয়ার জন্য আপনাকে আরও গভীরভাবে এর সম্পর্কে জানতে হবে। মার্কেট পারফেক্টলি মুভ করে না আর তাই আপনার চোখকে সেই ভাবে প্রশিক্ষন দিতে হবে যাতে আপনি সঠিক ওয়েভ চিনহিত করতে পারেন আর তার থেকে লাভ বের করে নিতে পারেন।

হার না মেনে চেষ্টা করে যাবেন, আল্লাহর রহমতে সফলতা আপনার কাছে আসবেই।

ইলিয়ট তরঙ্গের ইন্ডিকেটরসমূহ

ডাউনলোডঃ Elliott_Waves.mq4
ডাউনলোডঃ FX5_NeelyElliotWave_v1.2.mq4
ডাউনলোডঃ IBFX-Waves.ex4
ডাউনলোডঃ Elliott_Wave_Oscillator.mq4
ডাউনলোডঃ 3_Level_ZZ_Semafor.mq4
ডাউনলোডঃ MTF_Elliott.mq4
 আরো পড়ুন

নিয়মিত ফরেক্স টিপস, ট্রিকস এন্ড ইনফরমেশনের জন্য আমাদের লাইক করুন

Please Leave a Reply