ইকোনমিক ইন্ডিকেটর

জিবরান :সেই আদিকাল থেকেই সঠিকভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মার্কেট অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে বড় বড় ব্যবসায়ীরা এগিয়ে যেত। সাধারনরা তখন এই সব নিউজ পেত না তাই মার্কেট ধস কিংবা উত্থানের মূল কারণ তাদের অজানা থাকত। কিন্তু বর্তমানে এধরনের তথ্য সহজলভ্য এবং তাই এই তথ্য কাজে লাগিয়ে আমরা বুঝে নিতে যে ফরেক্স মার্কেটে অদূর ভবিষ্যতে কি হতে পারে। তবে এর জন্য ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিসের বেসিক জানা প্রয়োজন।

যোগান ও চাহিদা অর্থনৈতিক কার্যকলাপের মাপ কাঠি, এর দ্বারা মার্কেট উঠা নামার কারণ নিশ্চিত করা যায়, তবে একটি গ্রাম্য বাজারের যোগান ও চাহিদা  বুঝা যেমন সহজ ফরেক্স মার্কেট বুঝা তত সহজ নয়। এর জন্য আমাদের জানতে হবে কোন কারণটি মার্কেটের উপর কেমন প্রভাব ফেলে।

যেহেতু এইখানে অনেক বেশি পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয় এবং তা কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সাথে সম্পর্কিত তাই বিশেষ কিছু নিউজ এর প্রতি খেয়াল রেখেও আমরা মার্কেট সম্পর্কিত ভাল ধারনা পেতে পারি।

তবে লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে যে ফরেক্স ফান্ডামেন্টাল আনাল্যসিস সকল ধরনের ইকোনমিক নিউজ এর সাথে সম্পর্কিত তাই রিসার্ভ কারেন্সি পেয়ারের কোন নিউজ অন্য পেয়ারেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিডিপিপসের এই আর্টিকেলে ৬টি গুরুত্বপূর্ণ ইকোনমিক ইন্ডিকেটর সম্পর্কে আলোচনা করা হবে যেগুলো ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিসের জন্য জানা অত্যন্ত জরুরী।

সোশ্যাল এবং পলিটিক্যাল (সামাজিক ও রাজনৈতিক) অ্যানালাইসিসঃ

এটি পরোক্ষভাবে অর্থনীতির সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি কারন। কোন দেশে ক্ষমতায় অযোগ্য নেতৃত্ব থাকলে দেশের সার্বিক অবনতি আসবেই। তা ছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতা ঐ দেশের অর্থনীতিতে অনেক প্রভাব ফেলে।

উদাহরণ হিসাবে গ্রিসকে নেওয়া যায়,তারা শেষ পর্যন্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে প্রায় বিধস্ত করে ছাড়ে। অথচ ২০০৮ সালের পর আমেরিকানদের তুলনায় ঋণ বোঝা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অনেক কম ছিল। মানুষ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে অর্থনীতিতে অনেক ভালো করবে আশা করে ছিল, কিন্তু যারা গ্রিস এর সংকট বিশ্লেষণ করে ছিল এবং গুরুত্ব দিয়েছিল, তারা ঠিকই মার্কেটের গতিবিধি বুঝতে পেরেছিল।

ইকোনমিক আনাল্যসিসঃ

এখন আসা যাক মূল বিষয়ে। ফরেক্সে ইকনোমিক আনাল্যসিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারন এর উপরই ফরেক্স মার্কেটের ভোলাটাইলিটি নির্ভর করে। প্রায় প্রতিদিনই নানা রকম নিউজ থাকে তবে সবগুলো সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়। নিচে কিছু হাই ইমপ্যাক্ট ইকোনমিক ইন্ডিকেটর নিয়ে আলোচনা করা হলঃ

জিডিপিঃ

জিডিপি বলতে বুঝায় যে নিট উৎপাদন। মানে সেই দেশে সর্বমোট কি পরিমাণ সম্পদ উৎপাদন হয়েছে তার হিসেব হচ্ছে জিডিপি। এর দ্বারা কোন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার সবচেয়ে ভাল ধারনা পাওয়া যায়। এটি ত্রৈমাসিক সংবাদ। বিভিন্ন ইকনমিক নিউজ থেকে এর ফলাফল অনুমান করা যায়।

সুদের হারঃ

সুদের হার সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এটি কারেন্সি প্রাইসে অনেক বেশি প্রভাব ফেলে কারন যখন কোন দেশের সুদের হার বেড়ে যায় তখন মানুষ ব্যাংকে অর্থ জমা করা শুরু করে, আর যখন সুদের হার কমে তখন এর উল্টা হয়। সুদের হার খুবই গুরুত্বপূর্ণ  কারন এর দ্বারা অর্থনৈতিক ঠিক বজায় থাকে। অবশ্য সুদের হার বেশি থাকলেই যে সব ইনভেস্টররা ঐ কারেন্সির দিকে হুমড়ি খেয়ে পড়বে তা কিন্তু নয়। সেইফ হেভেন কারেন্সিগুলোর প্রতি ইনভেস্টরদের দৃষ্টি থাকে বেশি। বিডিপিপসে স্বপ্নিল ভাইয়ের সেইফ হেভেন কারেন্সি নিয়ে একটি পোস্ট আছে। সেটা পড়লে এ বিষয়ে ভালো ধারনা পাবেন।

পি পি আইঃ

পিপিআই এর সম্পূর্ণ রুপ হল প্রোডাক্ট প্রাইস ইন্ডেক্স। এটি বুঝায় দ্রব্য মুল্যের দাম বাড়া কমার সূচক। শ্রম,পরিবহন চাহিদা ইত্যাদি দ্রব্য মূল্যের দাম বাড়ায় কমায়। এটি মার্কেটে তেমন প্রভাব ফেলে না যদি না পি পি আইয়ের রেসাল্ট খুব বেশি পরিবর্তন হয় আগের রেসাল্ট থেকে।

সি পি আইঃ

কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বা ভোক্তা মূল্যসূচক হচ্ছে ফরেক্সে খুবই হাই ইমপ্যাক্ট নিউজ। মূলত এটি কোন দেশের যোগান ও চাহিদা ইঙ্গিত করে। একটি কারেন্সির সাথে অন্য কারেন্সির মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সুদের হার গুরুত্বপূর্ণ। আর সিপিআই অর্থনিতিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে। সি পি আই সুদের হারের সাথে সম্পর্কিত তাই এর পরিবর্তন কারেন্সির গতিপথের জন্য ভবিষ্যদ্বাণী স্বরূপ।

আশা করি এই এই ইকোনমিক ইন্ডিকেটরগুলো সম্পর্কে আপনি কিছুটা ধারনা পেয়েছেন। আসলে বিডিপিপসে একটি পোষ্টের মাধ্যমে এতো কিছু বর্ণনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা বিষয় নিয়ে পূর্ণ আর্টিকেল লেখার ইচ্ছা রইলো। আর বিষয়গুলো নিয়ে নেটে সার্চ করে আরও বিস্তারিত শিখতে পারবেন। আশা করি এখন থেকে ফরেক্স ফ্যাক্টরিতে নিউজগুলো দেখে কারও আর না বুঝতে পেরে বসে থাকতে হবে না।

1 COMMENT

Please Leave a Reply