জাপানী ক্যান্ডেলস্টিক

জাপান, নাম শুনলেই মনে পরে সূর্যোদয়ের দেশ। এরাই সকল ট্রেডারদের নতুন নতুন ট্রেডিং নিয়ম দেখিয়েছেন এবং উপায় শিখিযেছেন যাতে মাকের্ট চার্টকে আরও সহজ করে বুঝা যায়। সত্যিই অদ্ভুত, তাই নাই কি ? জাপানী চাল ব্যাবসায়ীরা চাল ট্রেড করতে ক্যান্ডেলস্টিক ব্যবহার করত। স্টিভ নেলসন (Steve Nison) নামক একজন এক জাপানী ব্রোকারের কাছ থেকে ক্যান্ডেলস্টিক সম্পর্কে জেনেছিল। স্টিভ (Steve) পরে ক্যান্ডেলস্টিক সম্পর্কে রিসার্চ করা শুরু করল এবং ক্যান্ডেলস্টিক সম্পর্কে লেখা শুরু করল। পরবর্তীতে ক্যান্ডেলস্টিক ১৯৯০ এর দিকে জনপ্রিয়তা পেল।

প্রাথমিক ধারণা ক্যান্ডেলস্টিক নিয়ে

  • যেকোনো টাইমফ্রেমে ব্যবহার করা যায়। এমন কি দিন, ঘণ্টা বা কয়েক মিনিট’এর জন্যও।
  • এটি ব্যবহার করা হয় নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দামের ওঠা-নামা দেখানোর জন্য।
  • এই ক্যান্ডেল তৈরি হয় নিদির্ষ্ট সময়সীমার ওপেন, হাই, লো এবং ক্লোজিং দিয়ে।
  • ক্লোজিং যদি ওপেনের ওপরে হয়, তাহলে একটা ফাঁকা (সাদা) ক্যান্ডেলস্টিক দেখা যায়।
  • ক্লোজিং যদি ওপেনের নিচে হয়, তাহলে একটা ভর্তি (কালো) ক্যান্ডেলস্টিক দেখা যায়।
  • ফাঁকা বা ভর্তি জায়গাটাকে “রিয়েল বডি“ বা শুধুই “বডি” বলা হয়।
  • বডির ওপরে যে সরু লেগ গুলি দেখা যায়, সেগুলোকে “শ্যাডো“ বলে।
ওপরের শ্যাডো’র ওপরের লেগটি “হাই”
নীচের শ্যাডো’র নীচের লেগটি “লো”

সবসময় মনে রাখবেন, জ্ঞান বা বিদ্যা অনেক মূল্যবান সম্পত্তি যা আপনার জন্য অস্ত্র হয়ে কাজ করবে ফরেক্স মাকের্টে। সময়ে ব্যবধানে বাকি সবকিছুই আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে শুধু জ্ঞান আপনার সঙ্গ ছাড়বে না।

CandlestickBasicsChart.gif

এই ছবিটা আমরা আগেও দেখেছি। ক্যান্ডেলস্টিক ২ প্রকারের হয়।

বুল ক্যান্ডেল -যদি ক্লোজিং প্রাইস ওপেন প্রাইসের উপরে থাকে।
বিয়ার ক্যান্ডেল – যদি ক্লোজিং প্রাইস ওপেন প্রাইসের নিচে থাকে।

২ টা ক্যান্ডেলই ওপেন, হাই, লো এবং ক্লোজ এর ভ্যালু দেখায়। এছাড়াও ক্যান্ডেলে চিকন ও প্রশস্ত অংশ দেখছেন। চিকন অংশটাকে শ্যাডো বলে। শ্যাডো দেখলে বুঝবেন যে প্রাইস সেই পর্যায়ে গিয়ে ফেরত এসেছে। প্রশস্ত অংশটিকে বডি বলে। বডি আপনাকে দেখায় যে, প্রাইস কোথা থেকে শুরু হয়ে কোথায় যেয়ে থেমেছে। চলুন উপরের ছবির বুল ক্যান্ডেলটিকে ব্যাখ্যা করে দেখি।

  • বুল ক্যান্ডেলটি শুরু হয়েছে ছবির ওপেন পয়েন্টে।
  • তারপর প্রইস নিচে নেমে লো পর্যন্ত গিয়েছে।
  • তারপর প্রাইস উঠতে উঠতে হাই পর্যন্ত উঠেছে।
  • তারপর হাই থেকে নেমে প্রাইস ক্লোজ হয়েছে।
  • পরবর্তীতে পড়ার আগে আপনি বিয়ার ক্যন্ডেলটা নিজে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করুন।

বিয়ার ক্যান্ডেলটার ব্যাখ্যা হল প্রাইস ওপেন হয়ে হাই পয়েন্টে গিয়েছে। তারপর লো পয়েন্টে এসে আবার উপরে উঠে ক্লোজ হয়েছে।”

এটা এখন যদি আপনার কাছে কঠিন লেগে থাকে তাহলে এই নিয়ে মাথা ঘামিয়েন না। সময়ের সাথে সাথে আপনি ক্যান্ডেলস্টিক ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন।

বডি এবং শ্যাডো দিয়ে কি বুঝায়?

বডি ,শ্যাডো

চার্টে দুই  রকমের ক্যান্ডেলস্টিক দেখতে পাচ্ছেন। কোনটার বডি বড় আবার কোনটার শ্যাডো বড়। এর মধ্যেও কিছু তথ্য লুকানো আছে।
যদি বুল ক্যান্ডেলের বডি বড় হয়, তাহলে বুঝবেন যে বাইয়িং প্রেসার বেশি। যদি বিয়ার ক্যান্ডেলের বডি বড় হয়ে থাকে, তাহলে বুঝবেন যে সেলিং প্রেসার বেশি।
শ্যাডো আপনাকে ট্রেডিং সেশন সম্পর্কে অনেক তথ্য প্রদান করে থাকে। যদি ক্যান্ডেলে শ্যাডো ছোট হয়ে থাকে তাহলে বুঝতে হবে যে ট্রেডিং ওপেন অথবা ক্লোজের কাছাকাছি সংকীর্ন হয়েছে।
যদি ক্যান্ডেলস্টিকে উপরকার শ্যাডো বড় আকারের হয় আর নিচের শ্যাডো ছোট হয়, তার মানে হল বায়াররা প্রাইস উপরে টেনে নিয়ে গিয়েছিল কিন্তু সেলাররা আবার প্রাইস নিচে নামিয়ে এনেছে।
যদি ক্যান্ডেলস্টিকে নিচের শ্যাডো বড় আকারের হয় আর উপরের শ্যাডো ছোট হয়, তার মানে হল সেলাররা প্রাইস নিচে টেনে নিয়ে গিয়েছিল কিন্তু বায়াররা আবার প্রাইস উপরে টেনে আনতে সক্ষম হয়েছে।
ক্যান্ডেলস্টিক বডির আচরণ
বডি যত লম্বা হয়, তার মানে বাই-সেল/কেনাবেচা ততোই ভালো হচ্ছে। এটির মাধ্যমে বুঝানো হয় এই পরিধিতে ট্রেডাররা ভালোই কেনাবেচা করছে। একইভাবে, একটা ছোট বডি আমাদের বুঝায় যে এইমূহুত্বে কেনাবেচা তেমন একটা হচ্ছে না।

কিছু কথা ক্যান্ডেলস্টিক নিয়ে

  • লম্বা সাদা বডি ক্যান্ডেলস্টিক বেশি পরিমানে বাই/কেনার দিকে ইঙ্গিত করে। এরকম পরিস্থিতিতে সাধারনত দাম বৃদ্ধি পেতে থাকে।
  • লম্বা কালো বডি ক্যান্ডেলস্টিক বেশি পরিমানে সেল/বেচার দিকে ইঙ্গিত করে। এমন সময়ে সচরাচর দাম কমে যায়।

ক্যান্ডেলস্টিক লেগ/শ্যাডো

  • নীচের শ্যাডোগুলী সেশান লো বোঝায়
  • ওপরের শ্যাডোগুলী সেশান হাই বোঝায়
  • লম্বা শ্যাডো ইঙ্গিত দেয় যে ট্রেড ওপেন এবং ক্লোজ হবার পূর্বে মাকের্টে প্রচুর পরিমাণে বাই ও সেল ট্রেডার এক্টিভিটি ছিল।
  • ছোট শ্যাডো ইঙ্গিত দেয় যে ট্রেড ওপেন এবং ক্লোজ হরার পূর্বে মাকের্টে কম পরিমাণে বাই ও সেল ট্রেডার এক্টিভিটি ছিল।

স্পিনিং টপ ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্ন

  • স্পিনিং টপ/রির্ভাস ক্যান্ডেলস্টিকের লম্বা আপার এবং লোআর শ্যাডো এবং ছোট রিয়েল বডি হয়।
  • এদের প্যাটার্ন থেকে অনেকটা বোঝা যায় যে ক্রেতা এবং বিক্রেতারা উভয়েই মার্কেট নিয়ে কি ভাবছে সেই সময়ে।
  • আপট্রেন্ডের সময়ে স্পিনিং টপ/রির্ভাস বোঝায় যে মার্কেটে ক্রেতা কমে যাচ্ছে এবং এটি একটি রির্ভারসালের দিকে ইঙ্গিত করে।
  • ডাউনট্রেন্ডের সময়ে স্পিনিং টপ/রির্ভাস বোঝায় যে মার্কেটে বিক্রেতা কমে যাচ্ছে এবং এটা একটা রিভারসালের দিকে ইঙ্গিত করে।

01 ব্যাসিক ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্ন

02 সিঙ্গেল ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্ন 

03 ডুয়াল ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্নসমূহ

04 ট্রিপল ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্ন 

05 ট্রিপল ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্ন 

ক্যা্ন্ডেলস্টিক প্যার্টান ট্রেডিং (BULLISH HAMMER)

  • নিয়মিত ফরেক্স টিপস, ট্রিকস এন্ড ইনফরমেশনের জন্য আমাদের লাইক করুন

 

 

Please Leave a Reply