পিভট পয়েন্ট
প্রফেশনাল ট্রেডাররা এবং মার্কেট মেকাররা সম্ভাব্য সাপোর্ট/রেজিস্টেন্স পাওয়ার জন্য পিভট পয়েন্ট ব্যাবহার করে থাকে। সহজ কথায় পিভট পয়েন্ট এবং এর সাপোর্ট/রেজিস্টেন্স লেভেলগুলোতে প্রাইস মুভমেন্টের পরিবর্তন ঘটতে পারে।
পিভট পয়েন্ট অনেকটা ফিবোনাচ্চির  মত। অনেক ট্রেডাররা এটা ব্যাবহার করে আর সেই লেভেলগুলো অনেকটা স্বপরিপূরক।ফিবনাস্যি এবং পিভট পয়েন্টের মধ্যে পার্থক্য হল যে পিভট পয়েন্ট চিন্তা নিরপেক্ষ আর ফিবোনাচ্চিতে  হাই/লো নির্ণয়ে ভিন্নমত থাকে।

বাই-সেল সিগন্যাল নির্ধারণ করার জন্য পিভট পয়েন্ট ফরেক্সে অনেক জনপ্রিয় একটি মেথড। রিভার্সাল পয়েন্ট (যেখানে গিয়ে প্রাইস বিপরীত দিকে ফিরে আসে) চিহ্নিত করার জন্য ট্রেডাররা পিভট পয়েন্ট ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে।মার্কেটের ওপেন প্রাইজের উপর ভিত্তি করে ২-১ ব্রোকারে আলাদা আলাদা পিভট পয়েন্ট তৈরী হয়। তবে আমরা জানি প্রতিটি সিষ্টেমেরই ভাল মন্দ দুটি দিক আছে। আপনার ভাল লাগলে পিভট পয়েন্ট দিয়ে ট্রেড করবেন আর ভাল না লাগলে ট্রেড করবে না। তবে আমার মতে প্রতিটি বিষয়ের উপর ধারনা থাকা ভাল।

পিভট পয়েন্টে চার্টটিকে কয়েকটি সেকশনে ভাগ করা হয়। মাঝের পয়েন্টটি হল পিভট পয়েন্ট (PP)। পিভট পয়েন্টের ওপরে প্রাইস থাকলে মার্কেট বুল্লিশ (মার্কেটের গতিবিধি ঊর্ধ্বমুখী) এবং পিভট পয়েন্টের নিচে প্রাইস থাকলে মার্কেট বিয়ারিশ (মার্কেটের গতিবিধি নিম্নমুখী)। R1, R2 এবং R3 হল রেসিসট্যান্স লেভেল এবং পিভট পয়েন্টের (PP) অপরে থাকে। S1, S2 এবং S3 হল সাপোর্ট লেভেল এবং পিভট পয়েন্টের (PP) নিচে থাকে।

পিভট পয়েন্ট

PP = Pivot point (পিভট পয়েন্ট)

R = Resistance (রেসিসট্যান্স)

S = Support (সাপোর্ট)

কিভাবে পিভট পয়েন্ট হিসাব করা হয়ঃ

পিভট পয়েন্টের ক্ষেত্রেঃ

  • High = গতকাল প্রাইস সর্বোচ্চ যে প্রাইসে গিয়েছে
  • Low = গতকাল প্রাইস সর্বনিম্ন যে প্রাইসে গিয়েছে
  • Close = গতকাল মার্কেট যে প্রাইসে ক্লোজ হয়েছে
ক্যালকুলেশনঃ
 
R3 = High + 2 x (PP – Low)
R2 = PP + (High – Low) = PP + (R1 – S1)
R1 = (PP x 2) – Low
PP = (High + Low + Close) / 3
S1 = (PP x 2) – High
S2 = PP – (High – Low) = PP – (R1 – S1)
S3 = Low – 2 x (High – PP)
আপনি এখন কষ্ট করে High, low এবং close বের করে পিভট পয়েন্ট বের করতে পারেন। অথবা পিভট পয়েন্ট ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে High, low এবং close সহজেই ডাটাগুলো বের করে নিতে পারেন। এছাড়া কিছু পিভট ইন্ডিকেটর রয়েছে, যেগুলো আপনার চার্টেই পিভট পয়েন্ট দেখিয়ে দেবে। এজন্য এই ইন্ডিকেটরটি ডাউনলোড করতে পারেন।
পিভট পয়েন্ট ,Pivot point)

কিভাবে পিভট পয়েন্ট ব্যবহার করে ট্রেড করবেনঃ

ব্রেকআউট ট্রেডিং

ব্রেকআউট হলে আপনি যেভাবে ট্রেড করেন, এখানেও তা ঠিক সেভাবেই কাজ করবে। প্রাইস যদি পিভট লাইনকে ক্রস করে এবং সেদিকে ক্লোজ হয়, তবে সাধারনত প্রাইস সেদিকেই যেতে থাকে। নিচের চার্টটি দেখুনঃ

কিভাবে পিভট পয়েন্ট ব্যবহার করে ট্রেড করবেন

সবুজ জায়গাটি বোঝাচ্ছে যে প্রাইস প্রথমে পিভট পয়েন্টের নিচে ছিল এবং সবুজ জায়গা থেকে পিভট লাইন অতিক্রম করে ওপরের দিকে উঠেছে।

যখন পিভট লাইন ভেঙ্গে যায়, তার মানে হল যে প্রাইস এখন সেদিকে যেতে শুরু করবে। ব্রেকআউট ট্রেড করার উপায় হল, ব্রেক হবার পরেই সেই দিকে ট্রেড ওপেন করা। আপনি যখন ট্রেড ওপেন করবেন, তখন আপনি ব্রোকেন লাইনের ঠিক বিপরীতে স্টপ লস সেট করবেন এবং টেক প্রফিট হবে পরবর্তী লাইন।

পিভট পয়েন্ট

ওপরের চার্টটি দেখুন। ট্রেড ওপেন করা হয়েছিল ২.০৫৫০ (সবুজ লাইন) প্রাইসে। স্টপ লস সেট করতে হবে ১.০৫৩৫ এ পিভট পয়েন্টের (লাল লাইন) নিচে। আপনার টেক প্রফিট হবে ১.০৫৯৪ এর R1 এর আশেপাশে।

এই ট্রেডটি মাত্র ৪০ পিপসের ছিল। খুব বেশী উত্তেজিত হবার কোন কারন নেই। কারন এগুলো সবসময় কাজ করে না। টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের অন্য কোন কিছুর সাথে আপনি এটাকে কাজে লাগিয়ে আপনি আরেকটু নিশ্চিত হতে পারনে যে আপনি ভুল ট্রেড করতে যাচ্ছেন না।

রেঞ্জ বাউন্ড ট্রেডিং

রেঞ্জ বাউন্ড ট্রেডিং হল যখন প্রাইস ২টি পিভট পয়েন্টের মধ্যে আঁটকে থাকে, অর্থাৎ ২টি লাইনের মধ্যেই বারবার ঘুরতে থাকে। নিচের চার্টটি দেখুনঃ

রেঞ্জ বাউন্ড ট্রেডিংযতবার প্রাইস পিভট পয়েন্টকে হিট করে, কিন্তু ব্রেক না করে ফিরে যায়, পিভট পয়েন্ট তত শক্তিশালী হয়। যদি প্রাইস দিনে কোন পিভট পয়েন্টকে ৫ বার হিট করে, কিন্তু ব্রেক না করে, তবে বুঝতে হবে পিভট পয়েন্টটি অনেক শক্তিশালী। কিন্তু প্রাইস যদি পিভট পয়েন্টকে ১ বার হিত করে, তবে রেঞ্জ বাউন্ড ট্রেডিং ট্রেডিং করার জন্য আপনি আরও ১ বার ঐ পিভট পয়েন্ট হিট করার জন্য অপেক্ষা করতে পারেন।

আপনি যদি কোন চার্ট দেখতে থাকেন এবং দেখেন যে প্রাইস কমপক্ষে ২ বার পিভট পয়েন্টকে হিট করেছে কিন্তু ব্রেক না করে বিপরীত দিকে ফিরে গেছে, তাহলে আপনি রেঞ্জ বাউন্ড ট্রেডিং করার কথা ভাবতে পারেন।

N.B. লেখাটির বেশির ভাগ অংশ  পূর্বে প্রকাশিত এখানে

কোন কোন ক্ষেত্রে পিভট পয়েন্ট ভাল কাজ করেঃ

মার্কেট যদি পিভট পযেন্ট থেকে ১০ পিপ এর মধ্যে ওপেন হয় তাহলে সেদিন পিভট পয়েন্ট ভাল কাজ করে।আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মার্কেট ঐদিন সেদিকেই মুভ করে।সেক্ষেত্রে মার্কেট পিভট পয়েন্টে থেকে উপরে ১০ পিপের মধ্যে ওপেন হয়ে পিভট পয়েন্টে ‍গিয়ে প্রাইস যদি পিভট পযেন্ট এর নিচে ক্যান্ডেল ক্লোজ হতে না পারে তাহলে পিভট পয়েন্ট লেভেল থেকে বাই দিলে ভাল প্রফিট পাওয়া যায়।আবার ডেলি সাপোর্ট ও রেসিসট্যান্স ৩ লেভেল, উইকলি সাপোর্ট ২,৩ লেভেল ও রেসিসট্যান্স ২,৩ লেভেল, মান্থলি সাপোর্ট ২,৩ লেভেল ও রেসিসট্যান্স ২,৩ এই লেভেলগুলির মধ্যে তিনটা লেভেল যদি একই জায়গায় অবস্থান করে তাহলে ঐ লেভেল থেকে এন্ট্রি নিলে ভাল প্রফিট পাওয়া যায়।

পিভট পয়েন্ট

কোন কোন ক্ষেত্রে পিভট পয়েন্টের মাধ্যেমে আমরা বুঝতে পারবো যে আজ মার্কেট টেকনিক্যাল বা ফারনামেন্টাল অনুযায়ী মার্কেট যেদিকে যাওয়ার কথা সেদিকে না ও যেতে পারেঃ

প্রাইজ যদি পিভট পযেন্ট থেকে ২০ পিপ বা তারও বেশি, উপরে বা নিচে মার্কেট ওপেন হয় তাহলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মার্কেট ঐদিন উল্টো পাল্টা আচারন করে। টেকনিক্যাল বা ফারনামেন্টাল অনুযায়ী মার্কেট যেদিকে যাওয়ার কথা সেদিকে যায় না। সেক্ষেত্রে ঐদিন পিভট পয়েন্ট স্টাটেজি ফলো না করাই ভাল। আর সেদিন একটু সাবধানে ট্রেড করা উচিত।

পিভট পয়েন্ট দিয়ে মার্কেট সেন্টিমেন্ট নির্ণয়

এতক্ষণ আমরা পিভট পয়েন্ট দিয়ে সাপোর্ট/রেজিস্ট্যান্সের ব্যাবহারের কথা বলছিলাম। পিভট পয়েন্টকে অন্য কাজেও ব্যাবহার করা যায়। সেটা হল মার্কেট সেন্টিমেন্ট নির্ণয় করার কাজে।

এর মানে হল, এটা আপনাকে ধারনা দিবে যে মার্কেটে ট্রেডাররা বাই না সেলের দিকে বেশী আগ্রহী। পিভট পয়েন্টে যে পিভট পয়েন্ট (পিপি) লাইনটা আছে, সেটা আপনাকে বুলিশ বিয়ারিশ সেন্টিমেন্টের সংকেত দিবে।

বুলিশ সেন্টিমেন্ট

প্রাইস যখন পিভট পয়েন্টের উপরে থাকে অথবা প্রাইস পিভট ব্রেক করে উপরের দিকে যায়। চার্টটি দেখুনঃ

পিভট পয়েন্ট দিয়ে মার্কেট সেন্টিমেন্ট নতুন দিন শুরু হয়েছে আর প্রাইস পিভট পয়েন্টের নিচে রয়েছে। সময়ের সাথে প্রাইস নিচে নেমেছে। এখানে ট্রেডারদের সেন্টিমেন্ট বিয়ারিশ ছিল। পরের চার্টটা দেখুন

পিভট পয়েন্টআগের চার্টের মত ডেইলি ওপেন পিভট পয়েন্টের উপরে আর সেদিনের সেন্টিমেন্ট বুলিশ দেখা যাচ্ছে। পরের চার্টটি দেখুনঃ

পিভট পয়েন্ট ব্রেক প্রাইস পিভট পয়েন্ট ব্রেক করেছে, আর দেখা যাচ্ছে যে প্রাইস সেদিন নিচে নেমেছে।

কি বুঝলেন? বুঝেছেন যে, পিভট পয়েন্ট একটা জাদুকরী ট্রেডিং ট্যুল তাই না? পিভট পয়েন্টের উপরে বাই, নিচে সেল আর ব্রেক করলে সেন্টিমেন্টে পরিবর্তন। আর কি লাগে, এই কোটিপতি হয়ে গেলাম আর কি!!!

আবারও বলছি, সব ট্যুল সবসময় কাজ করে না। মার্কেটে উপর নিচ সবসময় থাকবেই আর তাই নিজেকে সেই অনুযায়ী তৈরি করুন। পিভট পয়েন্ট একা আপনাকে ভালো সিগন্যাল দিতে পারবে না। অন্যান্য ট্যুল যেগুলো আপনাকে মার্কেট সেন্টিমেন্ট সম্পর্কে ভালো ধারনা দিবে এর সাথে যোগ করুন।

নিয়মিত ফরেক্স টিপস, ট্রিকস এন্ড ইনফরমেশনের জন্য আমাদের লাইক করুন

Please Leave a Reply