১ম পর্ব  না পড়ে থাকলে পড়ে আসুন।

জিবরান : স্কাল্পিং করার সময় আপনাকে অনেকগুলো ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। তেমনি একটি হচ্ছে কারেন্সি পেয়ার খুঁজে বের করা। কারন এই পেয়ার সিলেকশান আপনার স্ট্রেটেজির জন্য ও সঠিক ট্রেড ওপেন করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অসংখ্য কারেন্সি পেয়ার আছে। স্ক্যাল্পিংয়ের জন্য কোন পেয়ারগুলো বেছে নেয়া উচিত, কি কি বিষয় খেয়াল করা উচিত তা নিয়েই আজকের পোস্ট।

যেসব বিষয় খেয়াল রাখা জরুরী

  • ফরেক্সে স্ক্যাল্পারদের সবসময় ট্রেড নেওয়ার পূর্বে অবশ্যই মার্কেটের অবস্থা বুঝতে হবে
  • স্প্রেডের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে
  • রিকোটস ফ্রি ব্রোকার বেছে নিতে হবে
  • অবশ্যই মার্কেট লিকুইডিটি দেখে ট্রেড নিতে হবে যাতে বেশি প্রফিট করা যায়।

 

স্প্রেড এবং রিকোটসঃ

আপনি যখনই একটি ট্রেড ওপেন করছেন, আপনার ট্রেডটি কিছুটা লসে ওপেন হচ্ছে। এটাই হচ্ছে স্প্রেড। প্রত্যেকটি ট্রেডেই কিন্তু আপনাকে বর্তমান মার্কেটের ওপর নির্ভর করে কম-বেশি স্প্রেড দিতে হচ্ছে। বেশিরভাগ ব্রোকারেই স্প্রেড ফিক্সড নয়, আমার মতে ফিক্সড স্প্রেড ব্রোকারে ট্রেড না করাই ভালো। কারণটা পড়ে বলছি। তাই যখন আপনি ট্রেড দিচ্ছেন, অবশ্যই খেয়াল করা জরুরী যে প্রতি ট্রেডে কিন্তু স্প্রেডও সমান নয়। আবার সকল পেয়ারে স্প্রেডও সমান নয়। তাই স্ক্যাল্পারদের ট্রেড দেয়ার পূর্বে প্রধান দায়িত্ব হল যেই পেয়ারে ট্রেড দিতে চাচ্ছেন তার স্প্রেড আগে চেক করা।

ধরুন, EURUSD তে বর্তমান স্প্রেড ২ পিপস, আর NOKJPY তে বর্তমান স্প্রেড ৬ পিপস। তাই আপনি ট্রেড ওপেন করলে প্রথম ট্রেডটি ২ পিপস লসে ওপেন হবে, যেখানে পরের ট্রেডটি ৬ পিপস লসে ওপেন হবে। আপনার টার্গেট হয়তো হতে পারে ৭-২০ পিপস, এর মধ্যে যদি ৬ পিপস স্প্রেডেই দিয়ে দেন, তাহলে খেয়াল করে দেখুন লাভ কতটুকু কমে যাচ্ছে। তাই বেছে বেছে আপনাকে কম স্প্রেডের পেয়ার নিতে হবে।

অনেকে একটা ভুল করে থাকেন যে কম স্প্রেড খুঁজতে গিয়ে খারাপ ব্রোকার পছন্দ করে বসেন। দেখা যায় কোন ব্রোকার স্প্রেড দিচ্ছে ১ পিপস, কিন্তু রিকোটস দিয়ে ঠিকই তা উসুল করে নিচ্ছে। অনেক রেগুলেশন ছাড়া ব্রোকার গ্রাহককে আকর্ষণ করার জন্য অনেক কম স্প্রেড অফার করে থাকে। অনেকেই এই ফাঁদে পরে ডিপোজিট করে পরে দেখে তারা ডেমো অ্যাকাউন্টের মত স্প্রেড রিয়েল অ্যাকাউন্টে পাচ্ছে না। কিছু ব্রোকার সত্যি সত্যিই খুব কম স্প্রেড প্রদান করে কিন্তু রিকোটসের মাধ্যমে বেশি স্প্রেড আদায় করে থাকে। ধরুন, একজন ট্রেডার ১.৩২০০০ তে একটি ট্রেড ওপেন করতে চায়। কিন্তু ব্রোকার তাকে রিকোটস প্রদান করল এবং বলল প্রাইস পরিবর্তন হয়ে গেছে। বর্তমান প্রাইস ১.৩২০৪০. তখন যদি ট্রেডার ১ পিপস স্প্রেড দিয়েও ট্রেড ওপেন করে থাকে, পরোক্ষভাবে কিন্তু সে ৫ পিপস স্প্রেড প্রদান করল। কারণ সে ট্রেড ওপেন করতে চেয়েছিল ১.৩২০০ তে। রিকোটসের কারণে তার ট্রেড পরে ওপেন হল। তাই যখন ট্রেডটি ১.৩২১০০ এ গেলো, ট্রেডারের লাভ হল ৫ পিপস। ট্রেডার হয়তো খুব খুশি হল যে স্প্রেড ১ পিপস দিয়ে ৫ পিপস প্রফিট পেলাম। কিন্তু এখানে যদি সে ভালো ব্রোকারে ২ পিপস স্প্রেডও দিতো, তবে ১.৩২১০০ এ গেলে তার লাভ থাকতো ৮ পিপস। তাই স্ক্যাল্পারদের জন্য অন্যতম সেরা শর্ত হল রিকোটসসহ ব্রোকার সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা।

 

requotea
রিকোটস নিয়ে আরেকটি সমস্যা কিছু ব্রোকার করে তা হল ভোলাটাইল মার্কেটে অনেক সময় যেদিকে প্রাইস যাওয়ার সুযোগ আছে, সেদিকে উদ্দেশ্য-প্রণোদিত ভাবে রিকোটস প্রদান করে। সেক্ষেত্রে আপনি দেখা যায় ট্রেড দিতে চেয়েও ট্রেড দিতে পারবেন না। সেজন্য মার্কেট এক্সিকিউশন ব্রোকার বেছে নেয়া ভালো যেগুলোতে ট্রেড এক্সিকিউশন গ্যারান্টেড থাকে। তাই আপনি কোন প্রকার রিকোটসও পাবেন না, এবং ট্রেডও নিশ্চিতভাবে ওপেন হবে। আবার কিছু ব্রোকার ফিক্সড স্প্রেড প্রদানের কথা বলে, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ট্রেড ওপেন করতে দেয় না, অফ কোটস, ট্রেড কনটেক্সট বিজি ইত্যাদি মেসেজ দেখিয়ে ট্রেডারদের ট্রেড থেকে বিরত রাখে। এদের থেকেও সাবধান থাকা উচিত।

এক্ষেত্রে তাহলে অনেকেই বলবেন যে তাহলে আমি আদর্শ স্প্রেড কত বেছে নিব স্ক্যাল্পিংয়ের জন্য? আমার মতে মেজর পেয়ারগুলোর জন্য ২-৩ পিপস স্প্রেড ঠিক আছে। এর বেশি হয়ে গেলে আবার বেশি হয়ে যাবে। যেমন আমি XM এ EURUSD তে স্ক্যাল্পিং করি, তাদের স্প্রেড সবসময় ২ এর নিচে থাকে, এভারেজ ১.৮ পিপস। যদিও Octafx, Exness এ ধরণের কিছু ব্রোকারে ১ পিপসের মত স্প্রেড দেয়, কিন্তু রিকোটসের জন্য সেগুলোতে ট্রেড করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। আর বিশেষ করে Octafx এ আপনি প্রফিট করা শুরু করলে প্রতি ট্রেডে অতিরিক্ত ২ পিপস স্প্রেড যোগ করে দেয়। তাই রেগুলেটেড এবং সুবিধাজনক হিসেবে আমার কাছে XM ভালো মনে হয়। অন্যদের ভিন্নমত এবং নিজস্ব পছন্দ থাকতে পারে।

লিকুইডিটিঃ

আপনি যখন স্কাল্পিং করছেন তখন যদি মার্কেটে মুভমেন্ট না থাকে তাহলে কেমন হবে? আপনি অবশ্যই চাইবেন না যে ১০ পিপস লাভ করতে আপনার সারাটা দিন বসে থাকা লাগবে। তাহলে উপায় কি? উপায় হচ্ছে মার্কেটের লিকুইডিটি বুঝে ঐ পেয়ারে ট্রেড করা। মেজর কারেন্সি গুলোতে ভোলাটিলিটি বেশি খুঁজে পাওয়া যায়, তবে মার্কেট ঘেঁটে খুঁজে বার করে নেওয়াই ভাল। আর একটি ব্যাপার মার্কেটে নরমাল অবস্থায় ভোলাটিলিটি যা থাকে তাতে কিন্তু কোন স্লিপেজ থাকে না, কিন্তু নিউজ টাইমে আপনি কম-বেশি স্লিপেজের সম্মুখীন হবেন সব ব্রোকারে। তাই এ ব্যাপারে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমি যে পন্থা অবলম্বন করি তা হল আমি ট্রেড দেয়ার পূর্বেই টেক প্রফিট বা স্টপ লস দেই না। ট্রেড ওপেন হওয়ার পর টেক প্রফিট বা স্টপ লস সেট করি। এটা করলে যদি আপনি স্লিপেজের সম্মুখীন হনও, আপনার কোন ক্ষতি হবে না। প্রাইস গ্যাপের ফলে নতুন প্রাইসে ট্রেড ওপেন হবে, এরপর আপনি আপনার স্ট্রাটেজি অনুযায়ী টেক প্রফিট বা স্টপ লস সেট করে দিবেন।

স্ক্যাল্পিংয়ের জন্য কারেন্সি পেয়ার এবং ট্রেডের সময় ২টি বাছাই করার সময়ই আপনাকে এটা লক্ষ্য রাখতে হবে যে মার্কেটে ভালো লিকুইডিটি বা ভোলাটিলিটি রয়েছে। ফলে আপনাকে একটি ট্রেড দিয়ে অনেকক্ষণ বসে থাকতে হবে না, অপরদিকে ভোলাটাইল মার্কেটে আপনি একই পেয়ারে একাধিক স্ক্যাল্পিং ট্রেড করার সুযোগ পাবেন।

কারেন্সি পেয়ার সিলেকশানঃ

প্রত্যেকটি ব্রোকার অনেকগুলো করে কারেন্সি পেয়ার সমর্থন করে ট্রেড করার জন্য। এখন কি আপনি সবগুলো পেয়ারেই স্ক্যাল্পিং করবেন? সবগুলো পেয়ার স্ক্যাল্পিং করার জন্য উপযুক্তও নয়। এজন্য বেশিরভাগ ট্রেডার পছন্দ হল মেজর পেয়ারগুলো। মেজর কারেন্সি পেয়ার হল ৮টি। ডলারের ক্রস পেয়ারগুলোকে মেজর কারেন্সি পেয়ার বলা হল। পেয়ারগুলো হলঃ

মেজর কারেন্সি পেয়ার

মেজর পেয়ারগুলোর রয়েছে বেশ কিছু সুবিধা যে কারণে স্ক্যাল্পারসহ সকল ট্রেডাররা এই পেয়ারগুলোতে ট্রেড করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এই মেজর পেয়ারগুলো সবচেয়ে বেশি ট্রেড করা হয়। অন্যান্য পেয়ারগুলোর তুলনায় এই পেয়ারগুলোর স্প্রেড সব ব্রোকারেই অনেক কম। এই পেয়ারগুলোতে লিকুইডিটি বেশি থাকে। তাই স্ক্যাল্পারদের পছন্দের তালিকায় সর্বদা এই ৮টি পেয়ার থাকে।

মেজর কারেন্সি পেয়ার

[ধারাবাহিক স্ক্যাল্পিং গাইড – ১ম পর্ব]

[আরও পড়ুনঃ জিরো জিরো স্ক্যাল্পিং স্ট্রাটেজি]

3 COMMENTS

  1. […] [ধারাবাহিক স্ক্যাল্পিং গাইড – ১ম পর্… [ধারাবাহিক স্ক্যাল্পিং গাইড – ২য় পর্ব] [আরও পড়ুনঃ জিরো জিরো স্ক্যাল্পিং স্ট্রাটেজি] […]

Please Leave a Reply