ফরেক্স রোগ

নতুন নতুন ফরেক্স ট্রেডারদের কিছু কমন রোগ থাকে। যেগুলা থেকে চিকিৎসা নিয়ে ভাল না হলে ক্যান্সারের মত একাউন্টকে ধীরে ধীরে শেষ করে দেয়।
প্রথমে উপসর্গগুলি বলি দেখেন আপনার মধ্যে আছে কিনা?

** সারাদিন টার্মিনালের সামনে বসে থাকার নেশা
শনি – রবিবার অস্বস্তিতে থাকা। রাতে ঘুমালেও টার্মিনাল চার্ট স্বপ্নে দেখা। আর ফেসবুকে স্টাটাস দেয়া ইসস কেনযে সপ্তাহে ৭ দিনই মার্কেট খোলা থাকেনা। দুনিয়াদারী ভুলে যায় ফরেক্স এর নেশায়। এটা আসলে হয় প্রাথমিক স্টেজে। এবং টুকটাক প্রফিট পেলে। ২-৩ বছর গেলে এই রোগ এমনিতেই সেরে যায়। অথবা বড় কোন লস খেয়ে লালবাত্তি দেখলে এটা এমনিতেই চলে যায়।
** স্টপলস , টেকপ্রফিট মডিফাই করা।
এই রোগটাও অনেকের আছে, সেটা হলো কঠিন পণ করে এবার মানি ম্যানেজমেন্ট মানব, রিস্ক-রিওয়ার্ড মানব। স্টপলস টিপি অবশ্যই দিব। হা, সেটা দেয়ও। কিন্তু ক্যান্ডেল যখন স্টপলসের কাছাকাছি চলে আসে তখন আস্তে সেটাকে ১০ পিপ সরিয়ে দেয়। আবার যখন সেখানেও চলে আসে আবার ১০ পিপ। এভাবে দেখা যায় স্টপলস দিছিলো ৫০ পিপস কিন্তু সেটা কিভাবে জানি ১২০ পিপস এ চলে গেল। আবার টেকপ্রফিট ঠিকই দেয়। কিন্তু ১০০ পিপস টেকপ্রফিট দিল কিন্তু যখনি সেটা ২০ – ৩০ পিপস যায় ট্রেড টা আস্তে ক্লোজ করে দেয় এই মনে করে যে আবার আগের যায়গায় যাক আবার ট্রেড নিবো। কিন্তু দেখা যায় যখনি ট্রেড ক্লোজ করেছে তখনি মার্কেট ঠিকই টিপির দিকে চলে গেছে।
** নতুন সিস্টেমের সন্ধানে সবসময়, নিত্য নতুন সিস্টেম বদলানো।
যেখানে নতুন স্ট্রাটেজি, নতুন EA পাবে সেটাকেই রিয়েল একাউন্টে লাগিয়ে দিবে। ফরেক্স ট্রেডে সফলতার একটি মুল হলো নিজস্ব একটি সুন্দর সিস্টেম বানানো যেটার একুরিসি ৬০% এর উপর হবে। কিন্তু দেখা যায় ভাল একটা সিস্টেম আয়ত্ব করার পর সেটাকে বাদ দেয়ার পর আরেকজনের স্ক্রীণশট বা প্রফিট দেখে সেটাকে হলিগ্রেইল মনে করে সেটার দিকে অতিরিক্ত মনোযোগ দেয়। আবার কয়েকদিন পর সেটাকে বাদ দিয়ে নতুন আরেকটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাওয়া। সব সিস্টেমই প্রফিটেবল যদি সেটাকে পুরোপুরি আয়ত্ব করা যায়। কিন্তু বার বার সিস্টেম বদলালে কখনো সেটা প্রফিটেবল হয়না। এবং একটির উপর পুরোপুরি এক্সপার্ট হওয়া যায়না।
নিজের একটি মেইন সিস্টেম বা স্ট্রাটেজি থাকতে হবে। আর নতুন নতুন সিস্টেম নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করা যাবে ডেমোতে। কখনো বার বার মেইন সিস্টেম বদলানো যাবেনা। তাই বারবার সিস্টেম চেঞ্জ করাটা একটা বড় রোগ ট্রেডারদের জন্য।
** টার্মিনালের সামনে বসলেই ট্রেড দেয়া।
এই রোগটা কমণ সবার। টার্মিনাল খুলেই কোন এনালাইসিস ছাড়া আন্দাজে ট্রেড বসিয়ে দেয়া। এটি হয়তো লাভেও যায় , তবে এসব এনালাইসিস ছাড়া ট্রেড বেশিরভাগ লসই টেনে আনে।
** কোন লজিক ছাড়া ট্রেড দেয়া।
একজন ভাল ট্রেডার ট্রেড দেয়ার আগে অবশ্যই তার ট্রেডটি একটা লজিকাল রিজনে দিবে। হয়তো সেটা টেকনিক্যালি অথবা ফান্ডামেন্টালি। সে প্রাইছ একশন দেখে দেখলো এখন একটি ট্রেড নেয়া যায়। তখণ মানি ম্যানেজমেন্ট মেনেই তাকে টেকপ্রফিট আর স্টপলস সেট করে ট্রেডটি এন্ট্রি নিতে হবে। মনে রাখবেন লজিক ছাড়া ট্রেড দেয়াটাও একটা ফরেক্স রোগ। এটা আপনাকে ক্ষতির সম্মুখিন করে দিবে।
** অভার কনফিডেন্স
এই রোগটাই বেশির ভাগ ডুবায় ট্রেডারদের। ১ মাস দেখা গেল তার ৯০% টিপি হিট করেছে। সে তখন তার সিস্টেমের উপর অতিরিক্ত আস্থা রেখে বড় লটে ট্রেড শুরু করে। তখন স্টপলস ও দিতে চায়না। কিন্তু দেখা যায় এই অভার কনফিডেন্স এর কারণে তার পুরো মাসের ইনকাম মুল ব্যালান্স সহ জিরো করে দেয়।
** অভার ট্রেড
এই রোগটাও প্রায় সবার আছে। নির্দিষ্ট কোন টার্গেট নাই। খালি ট্রেড করে। ডেইলি একটি টার্গেট থাকতে হবে। আজকে আমার টার্গেট পূর্ণ হলে আর ট্রেড করবনা। কিন্তু দেখা যায় দিনের টার্গেট পূর্ণ হবার পরো আবার ট্রেড দিয়ে রাখে। লাষ্টে দেখা যায় সারাদিনের প্রফিট শেষ ট্রেডগুলাই শেষ করে দিলো।

যাক এগুলা ছাড়া আরো কিছু ফরেক্স রোগ আছে যেগুলা বেশিরভাগ নতুন ট্রেডারদেরই থাকে। সময় হলে সেসব ধাক্কা খেয়ে এমনি এমনি সেরে যায়। আর যাদের সারেনা। তারা কখনো প্রফিটের মুখ দেখেনা। তবে একটা নেশার মত এটার পিছনে ছুটতেই থাকে।
এগুলার প্রতিকার কি? প্রতিকার নিজের কাছেই। যখন এগুলাকে রোগ হিসেবে চিহ্নিত করে দিলাম। তাইলে এগুলো থেকে বিরত থাকা। মানসিক ভাবে এগুলোকে এভয়েড করাই হল একমাত্র চিকিৎসা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here