ফরেক্স ব্রোকার

আগের দিনে শুধুমাত্র বিশাল ধনী অথবা ব্যাংকগুলো ফরেক্স মার্কেটে ট্রেড করার সুযোগ পেত কিন্তু বর্তমানে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বিভিন্ন ফরেক্স ব্রোকারের আবির্ভাব হয়। ব্রোকার কোম্পানিদের মূল উদ্দেশ্য হল ক্রেতা এবং বিক্রেতার সন্নিবেশনে স্প্রেড এর মাধ্যমে কমিশন আয় করা।আর যারা ফরেক্স ট্রেড করেন তারা মুলত যে কোন একটি ব্রোকারের মাধ্যমেই ওয়ার্ল্ড মার্কেট থেকে বাই-সেল করে থাকেন।
নরমালি আমরা যে কয়েক টাইপের ব্রোকারে ট্রেড করি সেগুলাতে কয়েক টাইপের ট্র্রেডিং একাউন্ট আছে।
আবার কিছু ব্রোকার আছে যেগুলাতে একটাই একাউন্ট টাইপ আছে। আসুন সেসব সর্ম্পকে একটু ধারণা নেই।

ফরেক্সে ২ প্রকার ব্রোকার বিদ্যমানঃ

ডিলিং ডেস্ক (Market Maker/Forex Market Makers) ব্রোকারঃ

এই প্রকার ব্রোকার Route তথা একটি Way’র মাধ্যমে আপনার ট্রেডটি ওপেন করে, এবং তাদের স্প্রেড সিস্টেম সাধারণভাবে ফিক্সড করা থাকে। ডিলিং ডেস্ক ব্রোকার মূলত স্প্রেডের মাধ্যমে ইনকাম করে এবং ট্রেডারদের প্রত্যেকটি ট্রেড ওপেন এর বিপরীতে নিজেরা আরেকটি ট্রেড ওপেন করে থাকে। এই ব্রোকারকে Market Maker Broker ও বলা হয়ে থাকে কারন তারা ‘মার্কেট মেইক করে অর্থাৎ যদি কোন ট্রেডার কোন কারেন্সি বায় অর্ডার করে তখন ব্রোকার ঐ কারেন্সির আরেকটি সেল (বিপরীত) অর্ডার করে এবং ট্রেডার যখন সেল অর্ডার করে তখন ব্রোকার তার বিপরীত বা বায় অর্ডারটি করে। এই নিয়মে ট্রেডাররা প্রতিনিয়ত একটা প্রাইস চেঞ্জ এর মধ্যে থাকে বা ট্রেডাররা বেশিরভাগ সময়ে রিয়েল কৌওটে অর্ডার করতে পারে না। তাই অর্ডার এর ক্ষেত্রে অনেক হয়ত লক্ষ্য করেছেন যে Re-Quote কথাটি আসে। মূলত এরা হল রিটেইল ব্রোকার আর এই সকল ব্রোকার আমাদেরকে কম ইনভেস্টমেন্টে ট্রেড করার সুবিধা দিচ্ছে বলে ওরাও বিনিময়ে কিছু নিয়ে যাচ্ছে। তবে এইসব ব্রোকাররা সব সময় চেষ্টা করে ট্রেডারদের রিয়েল কৌওটে অর্ডার মেইক করে দিতে।  এই নিয়মে অর্থাৎ Hedge এর মাধ্যমে ট্রেডার এবং ব্রোকার উভয় সুবিধা লাভ করে থাকে।
 বিষয়টা আরো ভালভাবে বুঝতে নিচের চিত্রটি দেখুন :
 ব্রোকার টাইপ
আমরা যারা নরমালি ক্ষুদ্র ট্রেডার তারা বেশিরভাগই মার্কেট মেকারে ট্রেড করি। এবং একটি মজার বিষয় ৯০% ব্রোকারই মার্কেট মেকার।
মার্কেট মেকাররা মুলত প্রফিট করে থাকে দুভাবে প্রথমত স্প্রেড দিয়ে প্রফিট, দ্বিতীয়ত ট্রেডারের ট্রেডের এগেইনেস্টে ট্রেড নিয়ে আমরা যখন বাই করি তারা তখন সেল নেয়। আমরা যখন সেল করি তারা বাই নেয়। তারা মুলত বিড-আস্ক এর যে তারতম্য সেখান থেকেই প্রফিট করে থাকে। কারণ আমাদের এবং তাদের বিড আস্কে ১-২ পিপস বেশকম থাকে।
মার্কেট মেকার অলওয়েজ প্রফিটেই থাকে। কারণ একটি সত্যি কথা হল ৯০% নতুন ট্রেডারের হাতেখড়িই হয়ে থাকে মার্কেট মেকার ব্রোকারে। আর এটা সবাই জানি ৯০% নতুন ট্রেডারই লস করে। তার মানে তাদের লস ট্রেডের এগেইনেষ্টে ব্রোকারের উল্টা ট্রেড থাকে যেটা প্রফিটে থাকে। তার মানে আপনি লস করলেই ব্রোকার লাভ করবে। এভাবে তাদের লাভের অংকটা বেড়ে যায়। তাই বলে এটা ভাববেননা ব্রোকার আপনাকে লস করাচ্ছে ।
আসলে লস আপনি নিজের অনভিজ্ঞতার কারণেই করছেন কিন্তু ব্রোকার মার্কেট মেকিং এর কারণে আপনার লস থেকে উপকৃত হচ্ছে। সে আপনাকে লস করিয়ে দিচ্ছেনা। আপনি নিজেই নিজের কারণে লস করছেন। কিন্তু যেহেতু আপনার ট্রেডের এগেইনেস্টে তারাও উল্টা ট্রেড করেছে তাই তারা প্রফিটেই ট্রেডটি ক্লোজ করছে।
অনেকে আবার লস করে মার্কেট মেকারকে দোষ দেয়। এটাও ঠিকনা কারণ মার্কেট মেকার এর চার্ট আর নন মার্কেট মেকারের চার্ট একই। মার্কেট মেকারতো আর আলাদা চার্ট ব্যবহার করেনা। হা কিছু ব্রোকার ২-৫ পিপ ম্যানিপুলেট করে সেটা আলাদা কথা। কিন্তু মেইন মার্কেট রেট কিন্তু একই।
মার্কেট মেকারে আপনাকে হাই লেভারেজ ১:২০০০ পর্যন্ত অফার করে থাকে। তারা ১০০% পর্যন্ত বোনাস দিতে পারে। যেটা STP/ECN দিতে পারবেনা।
মার্কেট মেকারে স্লিপেজ, রিকোট, সামান্য পিপস ম্যানিপুলেট, স্টপলস হিট করানো সহ কিছু কাজ করতে পারে ব্রোকারে যেটা STP/ECN এ পারা যায়না।
তাই আপনার ট্রেডের ধরণ দেখেই আপনি আপনার একাউন্ট এর শ্রেণী ভাগ করুন।
প্রায় বেশিরভাগ রেগুলেটেড ব্রোকারেই STP/ECN, এবং মার্কেট মেকার দুই প্রকারের একাউন্টই থাকে।
তবে যাদের একাউন্টে ডিপোজিট কম তাদের মার্কেট মেকার ছাড়া গতি নেই।
আর আপনার ফান্ড যদি অনেক বিশাল হয় তাহলে আপনার জন্য STP/ECN ভাল বলে মনে করি।

নো-ডিলিং ডেস্ক (NDD) ব্রোকারঃ

এটা সাধারণ নিয়ম যেখানে ব্রোকাররা ট্রেডার এর ট্রেড এর বিপরীতে কোন ট্রেড ওপেন করে না শুধুমাত্র ওপেনকৃত ট্রেড থেকে কমিশন লাভ করে থাকে। তাই এইসকল ব্রোকারের ট্রেড অর্ডারে অতিরিক্ত কোন সময় লাগে না এবং Re-Quote করতে হয় না ট্রেডার রিয়েল কৌওটে অর্ডার মেইক করতে পারে। অনেকের মনে এখন প্রশ্ন জাগছে তাহলে আমরা NDD ব্রোকারে কেন ট্রেড করি না। আসলে NDD ব্রোকারগুলোর ট্রেডিং ইনভেস্টমেন্ট মোটামুটি হাই থাকে যার কারনে আমাদের মত লো-ইনভেস্টমেন্ট যাদের তারা ডিলিং ডেস্ক ব্রোকার ছাড়া কিছু চিন্তা করি না। তবে বিষয়টাতে খুব চিন্তার কিছু নাই কারন আপনি ভালো ট্রেডার হয়ে গেলে এই সব পার্থক্য আপনাকে খুব একটা ভাবাবে না।
নো-ডিলিং ডেস্ক ব্রোকারের মধ্যে আবার ২ ধরণের ব্রোকার আছেঃ 

STP: Straight Through Processing (STP) এই টাইপের ব্রোকারগুলো মুলত ট্রেডারদের অর্ডার কোন ডিলিং ডেস্ক ছাড়াই সরাসরি লিকুইডিটি প্রোভাইডারে (ব্যাংক এবং বড় ব্রোকারে) সেন্ড করে দেয় । সুতরাং এতে অর্ডার দ্রুত এক্সিকিউশন হয়, অতিরিক্ত সময় লাগেনা, এবং কোন রিকোট ও থাকেনা।
STP এর প্রধানতম সুবিধা হচ্ছে এতে ট্রেডারের লস হলে ব্রোকারের কোন প্রফিট হয়না। ট্রেডার লাভ করুক বা লস করুক সেটাতে ব্রোকারের কোন মাথাব্যাথা নেই। ব্রোকারের লাভ হল শুধু স্প্রেড এবং কমিশন। একেকটি ব্রোকারের অনেকগুলা লিকুইডিটি প্রোভাইডার থাকে। যাদের যত বেশি লিকুইডিটি প্রোভাইডার সেটাতেই ট্রেডাররা লাভবান হয় এক্সিকিউশন দ্রুততার সাথে হয় ডিপ লিকুইডিটি ফিড এর কারণে।

ECN: ECN stands for “Electronic Communication Network” এখানে ট্রেডার সরাসরি ওয়ার্ল্ড ফাইনান্সিয়াল মার্কেটে একজন অংশগ্রহণকারী হিসেবে সরাসরি যোগ দেয়। ট্রেডার নিজেই সরাসরি অন্যান্য অংশগ্রহণকারী যেমন, ব্যাংক, হেজফান্ড, বিগ ট্রেডার সহ অন্যান্যা ফাইনান্সিয়াল ফার্মগুলার সাথে সরাসরি যোগদান করে। এখানে ট্রেডারের এগেইনেস্টে ব্রোকার ট্রেড নিতে পারেনা। এবং এখানে ট্রেডারের লাভ বা লস যাই হোকনা কেন ব্রোকারের কোন লাভ-ক্ষতি নেই। ব্রোকার শুধু মাত্র কমিশন বা স্প্রেডটাই পায়। ট্রেডাররা মুলত হাই স্পীডি এক্সিকিউশন , নো রিকোট , এবং ডিপ লিকুইডিটির জন্যই এখানে ট্রেড করে। মুলত স্কাল্পার এবং এবং নিউজ ট্রেডারদের এই টাইপের ব্রোকার পছন্দ। তবে পিউর ECN এ mt4 ব্যবহার হয়না। cTrader, Currenex‘s PowerTrader সহ ECN এর জন্য আলাদা কিছু টার্মিনাল আছে।
একটা কথা মনে রাখবেন. STP/ECN এ লেভারেজ কম থাকবে, ব্রোকার কোন বোনাস দিতে পারবেনা। যারা সত্যিকারের সিরিয়াস ট্রেডার তারা STP/ECN পছন্দ করে থাকে।

নিয়মিত ফরেক্স টিপস, ট্রিকস এন্ড ইনফরমেশনের জন্য আমাদের লাইক করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here